মুই যেলা লালমনিরহাট পৌছনু আইত সাড়ে সাতটা। এটি আসির উদ্দিশ্যখান হইল মোর গুরুদেবের সথে দেখা করা। উমরা ভাস্কর। এটিকার কাচারী বাড়ি মন্দিরত অস্থায়ী ঘাটি বাঞ্চে। এখান মাস এটিকোনা সরস্বতী প্রতিমা তৈয়ার করি থাকে মোর গুরুদেব। মোর মুল টার্গেট কাজ শেখা। নেংটা কালের হাউস মুই বড় মাপের ভাস্কর হইম। গুরু ধরনু না হয়। একদিন গপ্পের ফাকত এক দাদু ফস করি কয়া ফেলাইছে " যে শিস্যর গুরু নাই, অই শিস্য জারুয়া"।
যদিও সেদিন মুই ইয়ার ঘোর বিরোধ করচু তবু মনোৎ কতাখান বিন্দিগেছিল, যার বাদে গুরু ধরা। অবশ্যাষ অন্দর- বন্দর ঘুরি আসি পৌছনু মন্দিরত। ইয়ার মাঝত কারেন চলিগেইচে। গুরুদেব পোয়ালোত শুতি বিড়ি টানি টানি গপ্প জুরছে। আন্ধার আর শরীলের কালার এক। লঙ্গি আর মুখান চেনা গেইল বিড়ির আগুনের আলোত।
মোক কিস্তির ম্যানেজারের মত ব্যাগ হাতোত খাড়া দেকি কইল," কি বাউ, তাইলে আসচিস?
একটা রুম দ্যাখে দেইল। আরো কয়েক বার গুরুর সথে মোর দ্যাখা হইছে। খালি অই আইতোত নয়া দেখনু একঝনক, "বকুল মামা"। বয়োস চল্লিশ আগপাছ। মজার এক মানষি হইল বকুল মামা। মুক্তার মতন সারিবদ্ধ দাত গুলার মধ্যত একনা দাত ক্যাঙ করি যে হুসকি গেইচে। বিড়ির ধুম্যা দুই ঠোটের সুড়ঙ্গ থাকি ছাড়ার আগোতে হুসকি পড়া দাতের ফাক দিয়া ব্যারে দৌড় মারে। আট দিন বিতিয়া গেইল মোর। এক লোডশেডিংঅত বকুল মামাক নিয়া গপ্পো। মামা একসমায় যাত্রা ও গানের দলোত নাম করা দোয়াড়ি আছিল। একদিন গঙ্গারচর নামের এক চরত ওমার দল গেছিল প্রোগ্রাম করির। মুরাই চরখানত ঘাস বালার মারাকাটি। ভিতিরা দুই এখান ভুইয়োত দুই-চাইরটা আখালি আর শুকান বাইগন গছত চেইমড়া নাগি ঝুলি আছে। এটিকোনায় ওমার প্যান্ডেল সাজে থোয়া। সেদিন সারাদিনমান নদীর চরত কাটি গেইল। আইত হইলে জড়েপল্টে সগাইগিলা একটে পোয়াল খ্যাতা বিছিয়া অইল।
দেইখতে দেইখতে গানের শ্যাষ দিন আসি পড়িল। আইজ আইতোত ভাত আন্দার দায় পড়িল বকুল মামার উপড়া। গোটায় বিক্যাল বেলাখান তরকারি কুটতে চাউল খড়ি যোগাড় কইত্তে চলি গেইল। সানঝের বেলা ভাত চড়ে দিল। ভাত হইল, ডাইল হইল, শাক ভাজির বসিল। শাকোত ত্যাল দেইল, শাক আধাভাজা হইল। ওরে সব্বনাশ! কাচা মরুচ শ্যাষ। হাড়ি পাতিল, ব্যাগ বস্তা সোগে ঘাটি দেখিল, মরুচ নাই। অজগবি মনোৎ পড়িল আইসপার সমে তো এখান আখালিবাড়ি দেখচু। হাউগ দাউক করি একটা ভুটুয়া জ্বলেয়া আকার পাড়ত শাকের কান্তাইর বগলোত থুইয়া; হারিকেন ধরি আখালিবাড়ি হাটা ধরিল। চরের গঙ্গাফড়িং গিলা বুঝি বকুল মামার হাতের হারিকেল ঝাপে আসি গাসে খাবার চায়। খালি হুড়মুড় খায়া হারিকেনের চিমনির গাওত ঝাপে পড়ে ভোটকা ভোটকা গঙ্গাফড়িং। মুরাই ভুই খুঁজিয়াও একটা কাচা মরুচ না পায়া ফিরি আসিয়া দ্যাখে; সগাই ভাত বারি নিয়া খাওছে। কান্তাইর শাক গিলাও নিজ দায়িত্বে নিয়া খাওচে। বকুল মামা হাতে হারিকেন নিয়া হা মেলি চায়া অইল। একঝন মুখোত ভাত চিব্যাতে চিব্যাতে কইলঃ বকুল দা, ভোগোতে প্যাট ছিড়ি পড়ির ধইচ্চে রে, যার বাদে নিজে নিজে ভাত নিয়া খাওছি। কিন্তুক বকুল দা, মরুচের ঝাল নাই ক্যারে?
বকুল মামা সগারে মুখের ভিতি দ্যাখে আর কান্তাইর উদি আগায়। মনে মনে কয় ঘটনা কি! মুইতো শাকত মরুচ দেঙ নাই, ফির এমরা মরুচ পাইল ক্যাঙ করি। নাকি অন্য কাও শাকত মরুচ দিছে। একঝন পুড়িয়া নাগা সবুজ অঙের কিবেন চাবে খায়া বকুল মামাক জোরে কইল," হ্যারে বকুল দা, ইগলা কোন জাতের মরুচ শাকত দিচিস রে? শালার একনা ঝালের বংশ নাই! ফির ক্যাদন ক্যাদন নাগে।
কান্তাই থাকি একটা মরুচ নিয়া বকুল মামা ভাল করি দ্যাখে আরে এটা তো মরুচ নোয়ায়! আখার পাড়ত যে ভুটুয়া জ্বলে থুইয়া গেইচে উয়াত ঝাপদিয়া গঙ্গাফড়িং গিলা শাকের গরম কান্তাইত পড়ি পাখা ঠ্যাং পোড়া যায়া খালি বডিখান করি মরুচের মত লম্বা হয়া আছে।
__সুজন রায়।
গোড়াই পাঁচপীর, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।
গোড়াই পাঁচপীর, উলিপুর, কুড়িগ্রাম।
হালিচা:
ছোট গপ্পো