পড়শী – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

সেটা হইবে নভেম্বরের পাঁচ কি ছয় তারিখ। সোমবার। পেটখারাপ, সেই তকনে অফিস যাও নাই। আরো ম্যালা মানষির নাখান হামারো পেটখারাপ হইলেও ফুচকা খাওয়া বন হয় না, চিংড়ির মালাইকারিও গোল বাটি করি পাতোত আসে। বন হয় খালি একটায়—সেইটা হইল অফিস যাওয়া। আর দিদির বাড়িত রবিবার গেইলে, সোমবার অফিসিয়ালি পেটখারাপ প্রায় পাকা। যারঘর বিবাহিত দিদি আছে আর অফিসোত কাম করার সোয়াদ আছে, তারঘর নিশ্চয় হামার কথা বুঝিবে।

তখন দুইপরা দুইটা হোবে। শীতের রইদ হামার ঘাড় আর পিঠত। জানলার ভিতি পিঠ ঘুরিয়া সবে মাংসর কষাটা চাখির ধরচি, আচমকা বেল বাজিল। অদ্ভুত কতা, হামি আসচি জানিলেই, দিদির বাড়ির কাম করা চেংরিটার সিক-লিভ। সেই তকনে মাংসর কষা থুইয়া হামাকেই নিচত নামির নাগে।

তিনতলাত খাবার ঘর। বাইর হইলেই একেবারে মুখোত সিঁড়ি। সিঁড়ি শেষ হইচে দোতলার বারান্দাত। চওড়া লম্বা বারান্দা। এক, দুই, তিন—তিনটা ঘর ছাড়ি বারান্দাটা ডাইন ভিতি বাঁক নিছে। তার পাছত গেট। আর ওই গেটের ওপারোত খাড়া হইয়া আছে একটা মানষি। মাঝবয়সী। মাথার চুল সোগ পাকা। আজিকালি সাদা চুল-সাদা দাড়ি হইল আভিজাত্যের চিন। মাঝবয়সী হইলে তো কথায় নাই। সেই তকনে একটু সন্দের চখুত চুলটা দেখনু।

না, আসল-এ মনে হইল। চখ-মুখ কাটাকাটা। খাটো দেঘল, চেহারার মইধ্যে আভিজাত্যের ছাপ।

—সোমনাথবাবু বাড়িত আছেন?

সোমনাথ ঘোষ—হামার জামাইবাবু।

মাথা নাড়িয়া না কনু।

—কুনসুমায় আসিবে?

—ঠিক করি কবার পাবার নাই, কিন্তুক দুইটার মইধ্যে ফিরি আসার কথা। তোমরা একনা বসি যাও।

—না, হামি কাছতেই থাকি। পাছত আসিম।

খাবার ফেলিয়া হামি আর বেশি সময় থাকির পাও না। সেই তকনে ভদ্দরলোকের কথা শুনিয়া খুশি-এ হইনু। উপরত উঠি। ফির থালির সামনোত বসিয়া আচমকা খিয়াল হইল, ভদ্দরলোকের নামটায় তো জানা হয় নাই।

খায়া উঠিয়া একটা লম্বা ঘুম। ঘুম ভাঙিল পাঁচটা নাগাত। ঘর আন্ধার। বারান্দার দুই মাথার দুইটা ল্যাম্পও নিষ্প্রভ। পাশের বাড়ির আলো তার খানিকটা ভাগ বারান্দার গিরিলের ফাঁক দিয়া ধার দিছে।

চখ মুখ ধুইয়া ড্রয়িংরুমোত আসি বসনু। ভোল্টেজ বহুত কম। টিউবলাইটটা বারে বারে জ্বলির চেষ্টা করির ধরচে, কিন্তুক এই ভোল্টেজোত স্টার্ট নিবার পায় না।

পাশের বাড়ি থাকি ভাসি আসির ধরচে—’অন্তরে তুমি আছো চিরদিন ওগো অন্তরযামী।’ বাগেশ্রী রাগ। এই রাগটায় সম্প্রতি শিখির ধরচি। গান শিখার বাদে হামি আজিকালি একটু-আধটু রাগ চিনির পাও। কিন্তুক হামার গলাত গাওয়া রাগ অন্য কারো পক্ষে চিনা মুশকিল। বিশেষ করি যারঘর ভাল করি রাগের পরিচয় আছে।

আচমকা ক্রিং, ক্রিং, ক্রিং। ফির কলিং বেল। দরজা খুলি। আন্ধারোত যে ভদ্দরলোকের মুখ উদ্ধার করনু, উয়াক ঘণ্টা তিনেক আগোত একবার দেখচি। ফির আসিছেন।

সোমনাথবাবু আসেন নাই?

—আসচেন বোধয়, দেখির ধরচি।…দিদি, জামাইবাবু ফিরচেন?

যারঘর দেখির পায় না, উমার শ্রবণশক্তি নাকি বেশি হয়। প্রমাণ পানু। আন্ধারোত দিদি কুনঠে টের না পাইলেও একটা গলা ভাসি আইল,—এইলা বাইর হইয়া গেইল।

ভদ্দরলোক বাইর-এ যাবার ধরছিলেন। আচমকা মনে পড়ি গেইল।

—তোমার নাম?

—মনোতোষ। উনি নাম কইলেই চিনির পাইবে।

—কুনসুমায় আসিবেন কও, উনাক থাকির কমু।

—হামি এইঠেই থাকি। পাছত আসিম।

ভদ্দরলোক চলি গেইলেন। হামি একটা ইতিহাসের বই নিয়া ড্রয়িংরুমের টিমটিমা আলোত বসনু।

কিছু সময়ের মইধ্যে ঘাড়োত একটা নতুন কাম চাপিল। দিদির ব্যাটাক সামলানো। দিদির ব্যাটাক যারঘর চিনে না, তারঘর, ‘বাঃ কী মিষ্টি’, ‘কী সুন্দর’ এই নাখান ভাল ভাল কথা কয়া নেয়। আর মিনিট পাঁচেক বাদেই বাড়ি যাবার তাড়া দেখায়। আর হামার নাখান অসহায় আর সোয়াদ পাওয়া মানষি, তাড়া না খাইলে উয়াক নেয় না। কিন্তুক সময় এত খারাপ, উয়াক নিবারে-এ হইল। দুধ ছাড়া ও দুনিয়ার সউগকিছু খায়। চাদর, বেডকভার, পেনসিল—এমনকী এই মুহূর্তোত ‘গ্লিমপসেস অব ওয়ার্লড হিস্ট্রি’ বইটাতোতও দেখনু বহুত আগ্রহ। কোল থাকি নামাইলে, সোফা থাকি মাটিত পড়ির উদ্যোগ করে।

শেষোত উয়াক ঠান্ডা মেজেত নামায়া দিনু। জিরো পোটেনশিয়াল এনার্জি। যা ফেলায় ফেলুক। কিন্তুক তাও হবার নয়। নামানোর সাথে সাথে। ওঁ…য়াঁ…

ভয়োত কোলাত তুলি নেও। এই নাখান অবস্থা হোবে আগোতে জানিলে অফিসে-এ যানু হয়।

এই করি আরো আধা ঘণ্টা কাটে। ছোট হইয়া আসা টিভির স্ক্রিনটা আচমকা মীরকাশিমের নাখান একবার বিদ্রোহ করি চলি গেইল।

ড্রয়িংরুমের বাইরোত আবছা আন্ধার। সেইটা বাড়ির বাড়ির তিনতলার সিঁড়ির ভিতিটা প্রায় অদিশ্য করি তুলিচে। ভাগিনাক কোলাত নিয়া সিঁড়ির ভিতি আগাই। আন্ধারোত ভয়, কিন্তুক ভাগিনাত ভয় আরো বেশি।

দোতলার দুই নম্বর ঘরটার সামন দিয়া হাতড়াইতে হাতড়াইতে যাবার ধরচি, আচমকা একটা শিহরণ।

ঘরের পরদাটা হাওয়াত উড়ির ধরছিল। এক পলক দেখিয়া মনে হইল, ঘরোত কায়ো যেন বসি আছে। কিন্তুক ‘দিদি’ বলি ডাকিতে সাড়াটা আইল উপর থাকি।

খাড়া না থাকিয়া উপরত পাও বাড়াই। ভাগ্য যা দেখির ধরচি, তাতে শেষোত চোরের হাতোতও না পড়ির নাগে!

দিদি উপরত রান্নাঘরোত। কড়াইয়ের বাঁ-ভিতিটা সাঁড়াশি দিয়া ধরিয়া একমনে চাপি খুন্তি নাড়ির ধরচে।

দিদিক নিচের কথাটা কনু। দিদি কিন্তুক হাসি উড়িয়া দিলে না। গম্ভীর করি কইল,—ঠিক দেখচিস?

—সেই নাখান-এ তো মনে হইল।

—যা তো ফির দেখ। উয়াক হামার কাছত দে।…খাড়া, এই টর্চটা নিয়া যা।

সিঁড়ির মাঝ বরাবর আসিয়া বুঝনু পাছোত দিদিও আসির ধরচে। ওই ঘরের পরদা সরাইতে-এ একটা ঠান্ডা হাওয়া ওই ভিতির জানলার পরদা উড়ায়া পাশের বাড়ির পিয়ারাগাছের ভিতি চলি গেইল। ঘরোত কায়ো নাই। অন্তত মনুষ্যশ্রেণিভুক্ত। দিদির ঘরের ইন্দুর আর আরশোলা বহুতদিন আগোতে-এ হামাক আউট নাম্বার করি বসি আছে। ওই ঘরের এক ইন্দুরের কাছোত কানমলা না কামড় কি একটা খাবার বাদে বাড়ির পোষা কুকুরও আর ওইঠে সান্দায় না।

ঘরের মেজেত ঘুরির ধরচে টর্চের আলো। দিদি উবু হইয়া বসিয়া খাটের তলাত সমীক্ষা চালার ধরচে। খানিক বাদে দিদি কয়া উঠিল—জানিস তো, সেদিনও কায়ো যেন এক-এ কথা কইছিল।

হামি হাসি উড়িয়া দেও। মাঝোত আচমকা টর্চের আলোটা নিভি যাবার বুঝনু হাসিটা অজানতে হারায়া গেইচে।

ইয়ার ঘণ্টা খানেক বাদে আলো ফিরি আইল। আরো মিনিট দশেক বাদে জামাইবাবু। সাথে একটা চৌদ্দো-পনেরো বছরের ছাওয়া। নতুন কামের চেংরি। কিছু সময় বাদে হামি কনু মনোতোষবাবুর কথা।

জামাইবাবু নাম চেহারা কোনোটায় খিয়াল করির পারিলেন না। মনোজ, মনোরম এই নাখান কয়েকটা ‘মনো’ যুক্ত নাম কয়া গেইলেন, যারঘর সাথে জামাইবাবুর চিন-পরিচয় আছে। কিন্তুক কারো চেহারার বর্ণনায় ওই মানষিটার সাথে মিলিল না।

এইঠে দিদিরঘর এই বাড়িটার কথা একনা কওয়া দরকার। আইভরি রঙের সিমেন্ট ওয়াশ করা তিনতলা বাড়ি। বাড়িটা দিদির খুড়াশ্বশুরের। আজীবন অবিবাহিত আছিলেন। আদরের ভাতিজার নামোত বাড়িটা উইল করি দিয়া গেইচেন।

একসময় উনার ঘড়ির দোকান আছিল। ব্যবসা রমরমা হবার এই বাড়িটা কিনিছিলেন এক মুসলমান পরিবারের কাছ থাকি। কিন্তুক উনার বয়স তখন চুল পাকাইচে। দিছে দুই-পাটি বান্ধা দাঁত আর কোঁচকানো গাল। তাও রাইত ন’টাত নিয়ম করি বারান্দাত দাবার আসর বসিত। আশপাশের বাড়ি থাকি আরো বুড়ার দল আসি জুটিত।

লাঠিত ভর দিয়া খেলার রোমন্থন করির করির রাইত বারোটা নাগাত বাইর হইয়া যাইত দাবাড়ুরঘর।

এই নাখান বেশ কিছু সইন্ধ্যা কাটায়া একদিন অসুখ হইয়া খুড়াশ্বশুর মরি গেইলেন। দিদির শ্বশুর ফ্যামিলি নিয়া আগের বাড়ি ছাড়ি এই বাড়িত চলি আইলেন।

অবশ্য আসার থাকি-এ একটা না একটা অঘটন নাগি আছে। আচমকা সেরিব্রাল অ্যাটাকোত দিদির শাশুড়ি মরি গেইলেন। দিদির ননদ স্টোভের আগুন নাগি পুড়ি মরি গেইলেন। বাড়ির পোষা কুকুরটা আচমকা একদিন বমি করি মরি গেইল। তা এই হইল বাড়িটার ইতিহাস।

সেবার এক সপ্তা বাদে ফির হাবড়াত গেইছিনু। জামাইবাবুর সাথে গাড়ি কেনা নিয়া আলোচনা করির ধরচি, আচমকা জামাইবাবু একটা বেখাপ্পা প্রশ্ন করি বসিলেন।

আচ্ছা, যে ভদ্দরলোক হামার খোঁজে আসছিলেন, উনার নাম কী ক তো?

—ক্যানে? তোমাক কনু না, মধুতোষ না মনোতোষ কী একটা।

জামাইবাবু একনা গম্ভীর হইয়া গেইলেন,—কী নাখান দেখির ক তো?

—এই সাড়ে পাঁচ ফুট দেঘল, ফরসা, টিকালো নাক, মাথাভরতি পাকা চুল, মাঝবয়সী।

—ক্যানে? খিয়াল করির পারচেন—কে?

—না—মানে হামি চিনির পাও নাই। পাশের বাড়ির অন্যত্রবাবু কইছিলেন—

—কী কইছিলেন?

—না, উনি তো এইঠেকার ম্যালাদিনের বাসিন্দা! উনি কইছিলেন, কাকাবাবুর আগোত নাকি এইঠে থাকিত এক মুসলমান পরিবার। তারও আগোত থাকিত এক মিত্তির পরিবার। স্বামী-স্ত্রী, সুখের সংসার, ভদ্দরলোক আছিলেন বহুত হুল্লোড় টাইপের। আচমকা একদিন রাইতোত আর বাড়ি ফিরিলেন না। থানাত ডায়েরি করা হইল। চাইরোভিতি খোঁজাখুঁজি চলিল। ম্যালাদিন কাটি গেইল, উনার আর খোঁজ পাওয়া গেইল না। বাড়িটা বেচি স্ত্রী বাপের বাড়ি চলি গেইলেন।…তা উনার নাম মনোতোষ মিত্র। আর দেখিতেও নাকি অবিকল ওই নাখান-এ।

—তাইলে?…ভদ্দরলোক এলা জীবিত?

—না ভদ্দরলোক বাঁচি নাই। অন্যত্রবাবুর বউয়ের মুখোত শুনা ভদ্দরলোকের ডেডবডি নাকি পানুঘর পুখুরিত পাওয়া গেইছিল।

তাইলে?—জামাইবাবুর ভিতি দেড় হাত সরি আসি।

—এই তকনে-এ নাকি মুসলমান ওই ফ্যামিলি এই বাড়ি ছাড়ি চলি যায়। তখনও এই ভদ্দরলোক মাঝে মইধ্যে খোঁজ করির আসিতেন। অন্যত্রবাবুর ভাষাত অতৃপ্ত আত্মা। আর আসা মানে-এ নাকি কারো মরণের পরোয়ানা। উমারও বেশ কয়জন পর পর অপঘাতোত মরি যায়।

তুই যাবার বাদে আর একবার উনি আসছিলেন। হামার অ্যাবসেন্সোত। ঝুমু—মানে হামারঘর কামের চেংরিটা দরজা খুলিছিল। কুনঠে থাকেন পুছির ধরিতে তখনো কিছু কন নাই।

এই সময় আচমকা দিদি আসি সান্দায়।

—দেখচেন কী বিপদ! ঝুমু কুনোমতে দরজা খুলির চায় না। প্রায় পাঁচ মিনিট কলিংবেল বাজির ধরচে। দুধওয়ালা। তাও ও নামিবে না। কয়, গতকাইল সইন্ধ্যাত দরজা খুলি দেখচে কায়ো নাই। য্যেলা ফিরির ধরচে, একটা পাওয়ের শব্দ নাকি উয়ার সাথে সাথে হামারঘর ঘরের ভিতি আগায়া আসচে। ঘরোত আলো জ্বালিয়া ও কিছুই দেখির পায় নাই।

—তা, এইলা কথা হামাক তো কিছু কন নাই।

—তোমাক কী কমু? হামি-এ কি জাননু! এলা ও কবার ধরচে। কালি থাকি উয়ার তাই কী নাখান অ্যাবনর্মাল-অ্যাবনর্মাল হাবভাব।

—না, এইঠেকার ব্যাপার-স্যাপার ঠিক সুবিধার নাগির ধরচে না। কালি য্যেলা বাথরুমোত গেনু ঘরোত আলো জ্বলির ধরছিল। বাইর হইয়া দেখি আলো নিভা। ঝুমু নিভায় নাই, তোমরাও নিভাও নাই। ঘরোত সান্দায়া দেখি সউগ ঠিকঠাক আছে। কিন্তুক বিছনার চাদরটা মনে হইল গরম। সামান্য কোঁচকানো। কায়ো যেন এইলা বিছনা ছাড়িচে। অথচ—

সেইদিন রাইতোত হামারও ভাল ঘুম আইল না। ভোরে চোয়া ঢেঁকুর নিয়া দিদির বাড়ি ছাড়নু।

ইয়ার মাসখানেক বাদে দিদিরঘর ওই বাড়ি ছাড়ি দিল। উপদ্রব বাড়ির ধরছিল। ঝুমুও পাগলের নাখান হাবভাব শুরু করিছিল। অন্যত্রবাবু-এ দিদিরঘর অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করি দিছেন। কলকাতার উপকণ্ঠত। আটতলাত ফ্ল্যাট। বাসের শব্দ ছাড়া কারো পাওয়ের শব্দ শুনার উপায় নাই। দিদির শ্বশুরও কলকাতাত ব্যবসাপত্র গুটায়া চলি আসচেন। বাড়িটা প্রায় জলের দরে বেচা হইচে। বাড়ির যা সুনাম—এমনি খদ্দের পাওয়া মুশকিল।

ইয়ার বছরখানেক বাদে হাবড়া যাবার হইছিল। মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাম। কিছু ডাক্তারক মুখ দেখায়া আসা। হাতোত বেশ খানিক সময় আছিল। ভাবনু দিদির বাড়ির ভিতিটা একবার ঘুরি আসি। দেখি আসি দিদিরঘর পরবর্তী হতভাগ্য মালিকের অবস্থা। পারিলে অন্যত্রবাবুর সাথেও দেখা করিম। ওই নাখান একটা উপকার করিলেন।

জাগাটার সামনোত যায়া থমকি খাড়াই। চিনা-এ যায় না। একটা বহুতল ফ্যান্সি মার্কেট। সামনের দোকানোত পুছি করি,—আচ্ছা, এইঠে যে বাড়িঘর আছিল, সেইলার কি হইল?

—ক্যানে, ম্যালাদিন বাদে আইলেন বুঝি? এইঠেকার পাঁচ-ছয়টা বাড়ি ভাঙি-এ তো এই মার্কেটটা বানাইচে।…তা বছরখানেক হোবে।

—কিন্তুক এইঠে যারঘর আছিল?

—প্রায় সউগ-এ তো অন্যত্র মিত্রঘর আছিল। একটা-দুইটা বাড়ি যা আছিল না, তাও আস্তে আস্তে কিনি নিছিল। উমার-এ তো এই বিশাল মার্কেটটা। উপর তলাত উমরা থাকে। উনার ব্যাটা তো ওই সামনের কাচের ঘরটাত বসে।…যাও!

আগাবার যায়া থমকি খাড়াই। ঘরটাত চা নিয়া সান্দাইল যে চেংরিটা, উয়াক হামি ভাল করি-এ চিনি—ঝুমু। আর অন্যত্রবাবুর ব্যাটা যার সাথে কথা কবার ধরচেন—উনিও হামার বেশ চিনা। কয়েক মুহূর্তের আলাপ হইলে-ও!

---

বুলিবদলঃ ভাওয়াইয়া ব্লগ

Post a Comment

Previous Post Next Post