খালি কুড়ি মিনিট - অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

কফির কাপত চুমুক দিয়া বাইর পাকে চাইল্ জয়ন্ত। আকাশটার রং সিগন্যাল-ছাড়া টিভির পর্দার নাখান। তুলা-নাখান বরফ পড়ির ধরচে। এখান লুফথানসার প্লেন পার্কিং থাকি বাইর হয়া রানওয়ের পাকে আগাইছে। হালকা সউজ জ্যাকেট পিন্দা এখান মানষি ঝান্ডা দেখেয়া প্লেনটাক আগাবার কইচে।

বিজনেস লাউঞ্জের সোফাত বসিয়া এইলা দেখিয়া আরামসে কয়েক ঘণ্টা কাটে দেওয়া যায়। কিন্তুক না, এইলা এখনে আগাবার নাগবে। আর কুড়ি মিনিট পাছত বোর্ডিং। গেট খুজিয়া ঠিক গেটের আগত যাইতে যাইতে আরও দশ মিনিট নাগিবে। গেটের আগত বসিয়া বাট চাওয়া-টাই ভালো।

পেরায় দেড় মাস হয়া গেল জয়ন্ত জার্মানি আইসচে। দুই সপ্তাহের বাদে আসিয়া কামত আটকি গেইচে। কত তাড়াতাড়ি দেশত ফিরির পায়, এখনে সেটার বাদেই বাট চায়া আছে। উয়ার বাদেই পত্যেকটা সেকেন্ড গনির ধরচে। লাউঞ্জ থাকি বাইর হবার আগত ফ্লাইট টাইমিং-এর পর্দাটাত চকু রাখে জয়ন্ত।

যাহ্, ফ্লাইটখান আধা ঘণ্টা লেট। বরফ পড়ির তানে হবে হয়তো। বরফ পড়িলে প্লেনগুলাক ছাড়িবার আগত ডিআইসিং করির নাগে। মানে আরও আধা ঘণ্টা পাছত বাইর হইলেও হবে। কয়টা আঙুর আর ন্যাসপাতি নিয়া ফির সোফাত আসিয়া বসে জয়ন্ত।

লাউঞ্জের ভিতরকার ঘড়িত পাঁচখান জাগার সময় দেখাইচে — টোকিও, হংকং, নিউইয়র্ক, লন্ডন আর মিউনিখ। এখদিন হয়তো ভারতের কোনো জাগাও যোগ হবে এই ঘড়ির সারিত। বাড়িত রন্টু এখনে কী করির ধরচে, সেটা জানিবার বাদে বারবার সাড়ে চার ঘণ্টা যোগ করির মেন্টাল ক্যালকুলেশনটাও করির নাগিবে না। নির্ঘাত এখনে কার্টুনের কোনো চ্যানেল দেখির ধরচে। আর জয়তী উয়াক মাঝে মইধ্যে পড়িবার বসিবার কয়া যাইচে। এখবার ফোন করি জানেয়া দেওয়া যাউক, প্লেন ছাড়িতে দেরি করির ধরচে।

ফোন করে জয়ন্ত, — ‘হ্যাঁ, মুই মিউনিখ এয়ারপোর্ট থাকি কইচুং। ফ্লাইট ছাড়িতে আধা ঘণ্টা দেরি হইবে। মনে হয় সকাল বারোটা নাগাদ কলকাতা পৌঁছিমু। সময় মতন এয়ারপোর্টত চলি আসেন। রন্টুক নিয়া আসেন।…’

উল্টা পাক থাকি জয়তীর কাথা পরিষ্কার শুনির পায় না জয়ন্ত। আরো কায়ো যেন উয়ার সাথত কাথা কইচে। ক্রস কানেকশন। না, ফোনত না হয়। কায়ো যেন জয়ন্তর আগতেই কাথা কইচে। অথচ আগত কায়ো নাই। অবাক কাণ্ড। বাধ্য হয়া জয়তীক অলপ কাথা কয়া ফোনটা কাটি দিল জয়ন্ত। অন্য কাথাটা কিন্তুক এখুনও চলির ধরচে। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিত কায়ো যেন উয়াক কয়া যাইচে। মন দিয়া শুনিবার চেষ্টা করে জয়ন্ত।

‘তুই আজিকা ইন্ডিয়া পৌঁছির পাবু না। তোর আগত ভীষণ বড় বিপদ।’

আবার সেই কাথাটা। উচ্চারণ শুনিয়া মনে হয় ইটালিয়ান। ‘আই’ ক ‘ই’-র নাখান করি উচ্চারণ করির ধরচে।

চাইরোপাকে তাকেয়া দেখে জয়ন্ত। ম্যালা মানষি বসি আছে বিজনেস লাউঞ্জত। কিন্তুক জয়ন্তর সব থাকি কাছত যে বসি আছে, সেও হাত পাঁচেক দূরত। পঞ্চাশের উপর বয়সের এখান ভদ্রলোক। ছোট করি কাটা চুল। চওড়া কপাল। ঠোঁটের উপর এখচিলতে গোঁফ। চকুত গোল লেন্সের রিমলেস চশমা। চোয়ালের পাশ দিয়া পড়া ভাঁজে মুখের কাঠিন্য ম্যালা বাড়েয়া তুলিচে। মানষিটা এখবার জয়ন্তর পাকে তাকেয়া আবার চকু সরেয়া নিল।

লাউঞ্জত বেশিরভাগে নিজের মতন কাম করির ধরচে। কায়ো কাগজ পড়িতে পড়িতে কফি খাইচে, কায়ো ল্যাপটপত কাম করির ধরচে। উল্টা পাকে কয়জন মানষি টিভি দেখির ধরচে। কিন্তুক এই মানষিটা কিছুই করির ধরচে না। চুপচাপ বসি আছে।

‘ঠিকেই ধরচেন। মুই-এ কইচুং। মোর নাম বোলে ফ্যাব্রিজিও। ইয়ার বেশি মুই কায়, কোটে থাকি আসচুং এই ব্যাপারে কোনো কিছুই কবার পাইম না। খালি এখানাই জানিবেন যে মুই তোমার ভালো চাং। আর এখনে তোমাক খালি এখান খবর জানাবার চাং।’

এইটা এখান অদ্ভুত অভিজ্ঞতা! মানষিটার কি জাদু জানে! ঠোঁট নড়ির ধরচে না। অন্য পাকে তাকেয়া আছে। কিছু কইচে না। অথচ মনের ভিতর পত্যেকটা শব্দ যেন পরিষ্কার শুনা যাইচে।

‘ঘাবড়াইস না। মন দিয়া শোন। তোর হাতত ঠিক কুড়ি মিনিট আছে। কুড়ি মিনিট পাছত তোর জীবনত এমন এখান ঘটনা ঘটিবার ধরচে যে তুই আর কোনোদিন-এ বাড়ি ফিরির পাবু না। তোর ছাওয়া-বউয়ের সাথত আর দেখা হবে না।’

অলপ সময় কাথা থামিল। তারপাছত ফির কয়া উঠিল — ‘মোর কাথাত বিশ্বাস হইচে না — তাই না! তোর ছাওয়ার নাম রন্টু। ভালো নাম জয়ব্রত। তোমরা থাকেন সল্টলেকের বিসি ব্লকত। ইদানীং রাজারহাটত এখান ফ্ল্যাট কিনচেন। ঠিক কি না?’

জয়ন্ত বুঝির পাইল, উত্তেজনাত উয়ার হাত-পাও ঠান্ডা হয়া যাইচে। এতবার যাতায়াত করে, এই নাখান ঘটনা উয়ার জীবনত কখনো হয় নাই! উঠিয়া মানষিটার কাছত যাইবে? কী কবার চায়, পরিষ্কার করি কইলেই পারে।

উঠিবার যাইবে, মনের ভিতর আবার মানষিটার গলা ভাসি আইল, ‘খবরদার! মোর কাছত আসিস না। এমন কিছু করিস না যাতে আর কায়ো এইটা টের পায়। যা করিবার চটপট ভাবি নেও। আর ঠিক আঠারো মিনিট বাকি আছে।’

আজব কাণ্ড! কী করিবে? কী বিপদ? কার থাকি বিপদ? কোনো কিছুই তো জানা নাই! বিপদ কী, না জানিলে উয়ার মোকাবিলা করা যায় নাকি? অথচ পুছিবারও পাওয়া যাইবে না।

‘মুই তোমাক বেশি কিছু কবার পাইম না। কারণ এই নাখান করি ভবিষ্যৎ থাকি আসিয়া কিছু কয়া বড় নাখান কোনো চেঞ্জ করি ফেলাইলে মুই নিজেই বিপদত পড়ি যাইম। নেহাত-এ তোর ছাওয়ার অনুরোধে আসা। উয়ার মুখ থাকি-এ পুরা গল্প শোনা।’

ভবিষ্যৎ থাকি আসচে? মোর ছাওয়ার অনুরোধে? মানষিটা কী সব আজগুবি কাথা কইচে!

‘বিশ্বাস কর বা না কর, তোর ছাওয়া হইল মোর বন্ধু। মোর বসও বটে। এমন অদ্ভুত মানষি খুব কম হয়। এত নামকরা সায়েন্টিস্ট, এত ভালো ব্যবহার, কিন্তুক কারো সাথত মিশিবে না। কারো সাথত মিশির ভয় পায়। তা এখদিন ম্যালা সাধাসাধির পাছত কারণটা কইল। তখনে-এ তোর ঘটনাটা শুনিলুং। তোক ছোটবেলা থাকি সবসময় ক্যাংকরিয়া মিস করিচে, সব কইচে। এই ঘটনার পাছত হঠাৎ করি এতটা অবস্থার পরিবর্তন, মাওয়ের পক্ষে সবকিছু সামলানো, খরচ কমাবার তানে নামি স্কুল থাকি অনামি স্কুল কিশোর ভারতীত ভরতি — বাড়ি বেচিয়া ভাড়াবাড়িত শিফট — সবকিছু। সব থাকি বড় কাথা এখুনও ও তোক খুব মিস করে।

‘তা মুই-এ এখদিন উয়াক কনুং — মুই যদি অতীতত গেয়া তোক আগত থাকি জানেয়া দেং, তাইলে এত বড় দুর্ঘটনাটা হয়তো ঘটিবে না। ও তো শুনিয়া-এ লাফি উঠিল। টাইমট্রাভেল এখনে সম্ভব হইলেও, পারমিশন পাওয়া যায় না। নিকট আত্মীয় হইলে তো কোনোভাবেই না হয়।

‘নেহাত তোর ছাওয়ার ইনফ্লুয়েন্সে মোর আসিবার পারমিশন পাওয়া গেইচে। কিন্তুক হাজারটা নিয়ম। এইটা করা যাইবে না, ওইটা করা যাইবে না। সোজাসুজি কী হবে, তা কওয়া যাইবে না। কার বাদে হবে, কী বাদে হবে তা কওয়া যাইবে না। তা যা করিবার তাড়াতাড়ি কর। আর মাত্র বারো মিনিট।’

মানষিটা যদি সব ঠিক কয়, তাইলে-বা কী করার আছে? কিছুই তো বুঝা যাইচে না। প্লেন ছাড়িতে আধা ঘণ্টা বাকি। প্লেনত উঠিবে না! কিন্তুক তা তো বারো মিনিটের ভিতর না হয়। লাউঞ্জ থাকি বাইর হয়া যাইবে? বাড়িত ফোন করি জানেয়া দিবে? উত্তেজনাত মাথা কাম করে না জয়ন্তর।

কাঁপা হাতত ফোন করে জয়ন্ত, ‘হ্যালো জয়তী! হ্যাঁ- কইচিনুং প্লেন দেরি হইচে।… না-না এমনি-এ ফির ফোন করিনুং। সাবধানে থাকিবেন। কোনো নাখানের প্রবলেম হইলে মিলনক ফোন করিবেন।… শোনেন রন্টুক অলপ দেন তো।… রন্টুসোনা, মাওয়ের কাথা শুনিবু — ভালো হয়া থাকিবু বুঝলু? তোর উপর ম্যালা দায়িত্ব। কী আনচুং? তোর বাদে ভালো বই কিনচুং। আচ্ছা তোর মাক অলপ দে।.. জয়তী, শোনেন মোর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাইলত মোর সব অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড আছে।… না-না — সব ঠিক আছে। এমনি-এ কইচুং। ফাইলটা কোটে ঠিক, বুঝির পাইচেন তো?’

মানষিটার কাথা আবার ভাসি আসির ধরচে। ‘আর ঠিক দশ মিনিট।’ বাধ্য হয়া ফোনটা থুইয়া দেয় জয়ন্ত। যাউক, দরকারি কাথাটুকু জানানো গেইচে অন্তত। এলোমেলো ম্যালা চিন্তা মাথাত আসে। জয়তী, রন্টুর মুখ খুব বেশি করি মনত পড়ে। যদি সত্যি-এ কিছু হয়, ক্যাংকরিয়া চলিবে উমরা? সবকিছুতে-এ তো উমরা জয়ন্তর উপর নির্ভর করে। কিছুই জানে না।

‘আরে জয়ন্ত না?’ পরিচিত গলাটা শুনিয়া চমকি ঘুরি তাকায় জয়ন্ত। তীর্থ। তীর্থ এইঠে? দমবন্ধ হওয়া পরিবেশত এখ ঝলক হাওয়া।

‘তুই, তুই এইঠে?’

‘মুই কানাডা থাকি ছুটিত ফিরির ধরচুং। ছয় ঘণ্টা পাছত কানেক্টিং ফ্লাইট।’

‘তা কী করিস কানাডাত?’

‘ব্যবসা।’

‘কীসের?’

‘গারমেন্টস এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট। বেশ ভালো-এ জমি গেইচে। তা সে কাথা ছাড়। কতদিন পাছত দেখা। সেই স্কুলের পাছত। তা কতবছর হইল? চব্বিশ-পঁচিশ বছর হবে, তাই তো?’

‘ঠিক সাতাইশ বছর। মাধ্যমিকের রেজাল্ট বাইর হবার পাছত তোর মাও মোক রান্না করি খোয়াইচিলেন। মাসিমা এখনে ক্যাংকরিয়া আছেন রে?’

‘মাও নাই। চাইর বছর হইল।’ তীর্থর গলাত অলপ ব্যথার সুর। অলপ থামিয়া ফির কয়া উঠে, ‘শোন, মোর সুটকেসটা এইঠে থাকিল। অলপ চকু রাখিস। মুই অলপ বাথরুম ঘুরি আসুং।’ তীর্থ দ্রুত পাওয়ে ওয়াশরুমের পাকে আগেয়া যায়। উয়ার শরীলটা আড়ালত মিলি যাবার না যাইতেই জয়ন্তর আবার মানষিটার কাথা মনত পড়ি যায়। আর কয় মিনিট বাকি? মানষিটা আর আগের জাগাত নাই। উত্তেজিত হয়া আগ-পাছত দেখির ধরচে জয়ন্ত। না! লাউঞ্জের এইপাকে অন্তত নাই।

আবোল-তাবোল দুশ্চিন্তা মাথাত আসে। প্লেন ক্র্যাশ? এইঠে-এ কোনো টেররিস্ট অ্যাটাক? তীর্থকেই অলপ খুলি কওয়া যাউক। অবশ্য ক্যাংকরিয়া বুঝাইবে? যে-কায়ো শুনিয়া তো পাগল কইবে। তিরিশ বছরের আগের তীর্থ তো আজি ম্যালা-খানি অপরিচিত। উত্তেজনাত এখ কাপ ক্যাপুচিনো নিয়া চট করি আবার ফিরি আসে জয়ন্ত। ধুর, নিকুচি করিচে। বাজে স্বপ্নের নাখান চিন্তাটাক ভুলি যাবার চেষ্টা করে জয়ন্ত। পুরাটা-এ তো আজগুবি। গেয়া-এ কোনো সাইকিয়াট্রিস্টক দেখাবার নাগিবে। জোর করি অলপ হাসিবার চেষ্টা করে।

অদ্ভুত! তীর্থ এত দেরি করির ধরচে ক্যানে? উয়াক কবার পাইলে অলপ হালকা হওয়া গেইল হয়। কী যেন কইচিল মানষিটা? উয়ার ছাওয়া রন্টু নাকি নামি সায়েন্টিস্ট। মনে মনে মুচকি হাসে জয়ন্ত। সারাক্ষণ কার্টুন দেখির ধরচে। আর ধৈর্য যা — সায়েন্টিস্ট! মানষিটা আরও কইচিল — রন্টু নাকি অদ্ভুত নাখানের। কারো সাথত মিশির ভয় পায়। আর সেই প্রসঙ্গত-এ নাকি জয়ন্তর কাথা ওই মানষিটাক কইচিল। কোনো মাথামুণ্ডু-এ খুঁজি পায় না জয়ন্ত। উয়ার মরি যাবার সাথত রন্টুর ওই নাখান স্বভাবের লিংক কোটে? কী হইতে পারে?

আচ্ছা, তীর্থ এত দেরি করির ধরচে ক্যানে? উঠিয়া ওয়াশরুমের পাকে যায় জয়ন্ত। না, এইঠে তো নাই। তা হইলে কি শাওয়ার রুমত গোসল করিবার ঢুকিচে? শাওয়ার লিস্টের নামের ভিতর তীর্থর নাম খোঁজে জয়ন্ত। না, তাতেও তীর্থর নাম নাই। ঘড়ির পাকে নজর পড়ে। আর ঠিক এখ মিনিট বাকি।

বুকের ভিতর ধুকপুকুনির আওয়াজটা যেন নিজে-এ টের পায়। হঠাৎ কী খেয়াল হইতে জয়ন্ত ছুটিয়া উয়ার বসিবার জাগার কাছত আসে। তীর্থর নাল স্যামসোনাইটের ট্রলিব্যাগটা এখবার আড়চকুয়ে দেখিয়া নিয়া, খালি নিজের ব্যাগটা নিয়া জোর পাওয়ে লাউঞ্জ থাকি বাইর হয়া আসে। পেরায় ছুটিতে থাকে জয়ন্ত। এয়ারপোর্টত মাঝে মইধ্যে-এ এই নাখান করি কাকো না কাকো ছুটিতে দেখা যায়। তাই জয়ন্তর ছোটাটা তেমন অস্বাভাবিক কিছু না হয়। কিন্তুক বেশি দূর না হয়। এখান বিশাল বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনে। আওয়াজটা আসিচে লাউঞ্জের পাক থাকি।

**২**

এখ মাস পাছের ঘটনা। সকালের কাগজত তীর্থর ছবি। মিউনিখ এয়ারপোর্টত বিস্ফোরণের কারণে তীর্থক ধরিচে জার্মান পুলিশ। খালি এখটা না হয়, সেদিন এয়ারপোর্টের তিনখান জাগাত বিস্ফোরণত মরি গেইচে টোটাল আটজন। আহত শতাধিক। জয়ন্ত জানে মরার সংখ্যাটা আরও এখজন বেশি হইল হয়। খালি ওই মানষিটার বাদে-এ ও বাঁচি গেইচে। শেষ মুহূর্তত জয়ন্ত বুঝির পায়। মানষিটা কইচিল, ‘রন্টু কারো সাথত মিশির ভয় পায়।’ ক্যানে? সেই ধাঁধার উত্তর পেয়া গেইচে জয়ন্ত। জয়ন্ত তার ছোটবেলার বন্ধুর সাথত দেখা হবার বাদে-এ মরি গেইচিল। সেটাই হইবার যাইচিল, যদি না ঠিক এখ মিনিট আগত সন্দেহ হইল হয় তীর্থের উপর। কতজনেই তো বন্ধু হয়, কিন্তুক আমরা ভালো করি চিনি উমাক কয়জনক? আর এই ঘটনার বাদে-এ রন্টু কারো সাথত মিশির ভয় পায়। না, পায় তো আর কওয়া যাইবে না। কওয়া যায় ভয় পাইল হয়।

রন্টু খাটের উপর বসিয়া হট হুইলের গাড়ি নিয়া খেলির ধরচে। উয়ার আর জয়তী দুইঝনের-এ মন খারাপ। আগের ভালো দামি প্রাইভেট স্কুল ছাড়েয়া উয়াক পাড়ার এখান সাধারণ স্কুলত ভরতি করিচে জয়ন্ত। তাত না আছে লন টেনিস খেলিবার জাগা, না সুইমিং পুল। একদম সাধারণ স্কুল। নাম কিশোর ভারতী।

ক্যানে করিচে? তা জয়ন্ত-এ জানে। যদি বোলে সত্যি-এ টাইমট্রাভেল করি থাকে, তাইলে রন্টু সায়েন্টিস্ট না হইলে সে তো ভারী বিপদত পড়ি যাইবে। বোলে সেদিন স্পষ্ট কইচিল যে রন্টু পড়িচে কিশোর ভারতী স্কুলত।

ভবিষ্যৎ আর পাল্টেবার ইচ্ছা নাই জয়ন্তর।

বুলিবিদলঃ ভাওয়াইয়া ব্লগ

Post a Comment

Previous Post Next Post