নিদান চাউলিয়া যুগের কাথা —কলীন্দ্রনাথ বর্মণ

নিদান চাউলিয়া যুগের কাথা
কলীন্দ্রনাথ বর্মণ

ধিদাগ ধিদাগ তাক
 ধিদা তিন তিতা ,
তিতি তাক তেন্না
 খিটি খিতা
কৈল্লা তিতা ঘিনা তিতা
ভাইরে তিতা বড় নিম ,
ছয়টাকা মাছের কেজি
কুড়ি পাইসা হাঁসের ডিম।
আম খাটা জাম খাটা
খাটা বড় তেঁতুল ,
সরিষার তেল চৰ্ব্বি মিশল
ভাইরে গেল জাতিকূল।
আদা ঝাল বাঘ মরুচ ঝাল
ঝাল বড় পিয়াজী ,
নেতা গেলা তাহ ঠগাছে
হামরি দরদী বন্ধু সাজি।
ওরসে খায় মশােয় খায় 
দেহার রক্ত খায় জোক ,
মুনাফাখােরের কাণ্ড দেখি
পালায় পেটের ভােগ।
খানু ভেজাল তেল
ধৈর্লেক আমশা রােগ ,
চাণ্ডালের বেটাগেলা
পরমায়ু খাটো কল্লেক মােক।
মশা কামড়ায় মাছি কামড়ায়
কামড়ায় ভাইরে ওরস ,
চোরাকারবারীগেলায় ভাইরে
কলিকালের প্রকাণ্ড রাক্ষস।
বাঘের ভয় ডাকাতের ভয়
 ভয় বড় গহমা সাপের ,
ঘুষখােরগেলার ভাইরে
 ঠিকানা নাই বাপের ।
চাষী ভাই মেথর ভাই
ভাই হামার শ্রমিক ,
মুনাফাখাের ঘুষখােরের
জন্মের নাই ভাই ঠিক।
বাইশ টাকা ধানের মণ
 দুই টাকা কেজি মুড়ি ,
সরযুপ্রসাদ মুদি
কন্ট্রোলের মাথা দিছে গুড়ি ।
মােটা মােটা শেঠের পেট
পেট উথুলিয়া খাছে ঘিউ পুরি ,
পেটের ভােকে আলির কচুগেলা
হামার তাহ যাছে চুরি।
তেলে ভেজাল ঘিয়ে ভেজাল 
 ভেজাল গুড়া মশলায় ,
আধামাঠা দুলুহাগেলা তাহ
ঘড়ি রেডিও চায় ।
খাদ্য সমস্যা চীন সমস্যা
সমস্যা বড় কাশ্মীর ,
বরের দাবী শুনি কৈনার বাপের
মাথা না রহে থির।
ঘুষখােরের উপদ্রব মুনাফাখােরের উপদ্রব
উপদ্রব বটে ছারপােকার ,
আধাধাকুরা মরণ হবে বুঝি
গরীব মূর্খ মানষিগেলার ।
 চাউলে পুলিশ তেলে পুলিশ
পুলিশ পরীক্ষার ঘরে ,
জাঠেলখুটা চোরক ধরির না পারি
* খড়িমুড়িগেলা ধরে।
সফরদজং ঘাঁটিতে নামিল
ডানিয়েল ওয়ালকট ,
ঘাঁটিয়ালক ফাকি দিয়া
 জাহাজে দিল চম্পট।
ত্যাগী গান্ধীজি ত্যাগী ভাবেজি
 ত্যাগী বটে চিত্তরঞ্জন ,
উম্যার দ্যাশের মানষি ইঞা
 তমা ভােগত দিলেন মন।
 কবি রবিঠাকুর কবি মাইকেল 
 কবি নজরুল ইসলাম ,
ভাই ভাই কাটাকাটি করি
 উম্যার ডুবানাে হামা নাম ।
সাধু বিবেকানন্দ সাধু নিগমানন্দ
 সাধু বটে সারদানন্দ ,
কাহকে চিনিবার না পারি
 হামার কপাল অতি মন্দ ।
হায়রে কি অদ্ভুত আশ্রম
 ফালাকাটা শৌলমারী ,
কোনঠে হাতে আইলাে সাধু 
 আলােচনা হয় বাড়ী বাড়ী।
বীর রাণাপ্রতাপ বীর তাঁতিয়া তােপি
 বীর বটে ছত্রপতি শিবাজী ,
সগার চাইতে বীর বটে
' জানকীনাথের পুত্র নেতাজী।
যােদ্ধা সূর্যসেন যােদ্ধা ক্ষুদিরাম
যােদ্ধা বটে বাঘা যতীন
উম্যার দ্যাশের মানষি হঞা
 হামার শশাষণেতে যাছে দিন।
ধিকরে গাভুর চেঙ্গেরা
 ধিকরে তম্যাক ধিক্‌
তমার মাও বৈনের ইজ্জং যায়।
 তেঁও থাকেন তমা ঠিক ।
পিন্দেছেন তমা ফোতলােং
ধৈছেন সাহেবের বেশ ,
নুচ্চা ওণ্ডায় ঠগাংকরে
 মজা লুঠেছে তমার দেশ ।
জাগােরে আধামরা গাভুর চেঙ্গেরা
ফুলিয়া উঠা তাের বুক ,
ঠগ গুণ্ডা দমন করিয়া 
 উজ্জ্বল কর মায়ের মুখ।
স্টেশনে লাইন ডাকঘরে লাইন
 লাইন চাউল তেলে ,
পেটভরা চাউল মিলে 
 গিত্থানীটা সুদায় গেলে ।
মতিলালের বেটা জহরলাল
 হামাক স্বাধীনতা দিলাে ,
সের ছটাকক ফেলেয়া 
 ওজনে আনিল কিলাে।
বিদেশী জিনিষ ব্যবহারে
গান্ধীজি করিল মানা
একশ পাইসায় টাকা হৈল 
বাদ পড়িল হামার আনা।



Post a Comment

Previous Post Next Post